1. admin@protidinercoxbazar24.com : admin :
শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে চকরিয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলাকারীরা |

প্রতিদিনের কক্সবাজার ডেস্ক
  • সময় : শনিবার, ৮ মে, ২০২১
  • ১৩১ বার পঠিত

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী যুবলীগ নেতাসহ সন্ত্রাসীরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। এ ঘটনায় কক্সবাজার জেলায় কর্মরত নানা গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

২ মে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের গেটের সামনে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও পাহাড় খেকো হাসানুল ইসলাম আদরের পরিকল্পনায় তার ভাই হাবিবুল ইসলাম নয়নসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তিনজন সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। মারধর করে লুট করে নিয়ে যায় তাদের ব্যবহƒত মোবাইল সেট ও পকেটে থাকা নগদ টাকা।

সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক যুগান্তরের চকরিয়া প্রতিনিধি মনসুর মহসিন, দৈনিক আমার সংবাদের চকরিয়া প্রতিনিধি ও প্রেস ক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ এবং স্থানীয় দৈনিক আজকের দেশ-বিদেশের প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল।

জানা গেছে, জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় অনুপ্রবেশকারী যুবলীগ নেতা হাসানুল ইসলাম আদরের বিরুদ্ধে পাহাড় কেটে মাটি লোপাট ও পরিবেশ ধ্বংস করার অভিযোগে ধারাবাহিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর গত রোববার পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের ইন্সপেক্টর মাহবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে পাহাড়কাটার বিভিন্ন পয়েন্টে সরেজমিন তদন্ত করতে আসেন। ওই সময় রিপোর্ট সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে তাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়।

এ ঘটনায় ৩ মে দুপুরে হামলার শিকার হওয়া সংবাদকর্মী দৈনিক আমার সংবাদের চকরিয়া  প্রতিনিধি মোহাম্মদ উল্লাহ বাদী হয়ে থানায় মামলা (নং-২, জি.আর-১৭৮/২১) দায়ের করেন। এতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাসানুল ইসলাম আদরসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১২ জনসহ মোট ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা রুজু হওয়ার গত চার দিনেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সন্ত্রাসী হামলার শিকার সাংবাদিকরা অভিযোগ করে জানান, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে সমাজের অনিয়ম, পাহাড় নিধন করে পরিবেশ ধ্বংস, অবৈধভাবে বালি উত্তোলন, ছড়াখালের ওপর বেইলী ব্রিজ নির্মাণকাজে গুরুতর অনিয়ম ও দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট সাফারি পার্কের সীমানা প্রাচীর মাটি লুটের কারণে হুমকিতে পড়ার বিষয়ে বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রচার করা কি সংবাদকর্মীদের অপরাধ হতে পারে? জাতীর বৃহত্তর স্বার্থে উক্ত অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রচার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশকারী যুবলীগ নেতা হাসানুল ইসলাম আদরের পরিকল্পনায় তার বড় ভাই হাবিবুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে তিনজন সাংবাদিকের ওপর উক্ত পরিকল্পিত হামলাটি হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রেকর্ড হলেও এ দিকে কোনো আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, অন্যদিকে হামলাকারীরা এখনও দলীয় পদে বহাল তবিয়তে রয়েছে।

তারা বলেন, অনুপ্রবেশকারী যুবলীগ নেতা হাসানুল ইসলাম আদর ২০১৭ সালে অর্থের বিনিময়ে দুই মাস মেয়াদের জন্য ডুলাহাজারা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের পদটি বাগিয়ে নিলেও বিগত চার বছর ধরে রয়েছে বহাল তবিয়তে। তার বাবা মকছুদ আহমদ ডুলাহাজারায় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন, আদরের বড় ভাই হাবিবুল ইসলাম নয়ন ইউনিয়ন ছাত্রদল সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আদরসহ তার পুরো পরিবার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়ার অনুগত ও বিশ্বস্থ পরিবার হিসেবে পরিচিত। তারা আন্দোলন সংগ্রামে জিয়ার সৈনিক এক হও, হাসিনা হটাও সেøাগান দিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সবসময় সরব অবস্থানে থাকতো। একইভাবে ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশকারী যুবলীগ নেতা হাসানুল ইসলাম আদরের শ্বশুর মহিউদ্দিন মেম্বার চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির বর্তমান উপদেষ্টা ও ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং তার (আদর) শাশুড়ি সাবেক পৌর কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী ও প্রভাবশালী বিএনপি নেত্রী হিসেবে পরিচিত।

এছাড়া মামলার অভিযুক্ত আসামি তানভীর হাসান ফাহিম ডুলাহাজারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও অপর আসামি মো. আনাছ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছে। তারা ছাত্রলীগের এই পদকে পুঁজি করে এলাকার নিরীহ লোকজনকে হয়রানিসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।

হামলার শিকার সংবাদিকরা কক্সবাজার জেলা-উপজেলা যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং কক্সবাজার জেলা-উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী মামলার অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান করেন।

এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিনজন সাংবাদিকের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদসহ অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন চকরিয়া প্রেস ক্লাবের নেতারা।

এই বিষয়ে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ আদনান জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি প্রমাণিত হলে এবং ছাত্রলীগের পদ নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল বলেন, হাসানুল ইসলাম আদরের হামলার পরিকল্পনা, দলীয় পদবীর অপব্যবহার ও অনুপ্রবেশকারী হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে তিনি নানা পত্রপত্রিকার মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত হয়েছেন বলে জানান।

চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুকে আমরা