1. admin@protidinercoxbazar24.com : admin :
শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

জামাত থেকে বিএনপি- বিএনপি থেকে আঃলীগ!

প্রতিদিনের কক্সবাজার ডেস্ক
  • সময় : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১
  • ৭৬৪ বার পঠিত

শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াশিম। মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতির পর যোগ দেন ছাত্র শিবিরের রাজনীতিতে। যুদ্ধাপরাধের আসামি মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর দেহরক্ষী হিসেবেও ছিলেন। এর পর কক্সবাজার শহরে ব্যাপক নাশকতা চালিয়ে নজর কাড়েন বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের আস্থাভাজন হওয়ায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে গত ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। নির্বাচিত হন মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সেই থেকে পেকুয়ার রাজনীতিতে ওয়াশিমের সরব উপস্থিতি। পেকুয়া উপজেলা বিএনপির আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক থেকে তিনি এখন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান নৌকা প্রতীকে।

advertisement
এ জন্য আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের নজর কাড়তে আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন ওয়াশিম। শুরু করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের দমন। সম্প্রতি সাবেক যুবদল নেতা জয়নাল আবেদিন হত্যাকা-ে তার প্ররোচনায় আসামি করা হয়েছে ২২ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে।

advertisement
জানা যায়, নিহত জয়নাল আবেদীন সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও ২০১২ সালে মগনামা ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এর পর ২০১৮ সালে মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াশিমের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন জয়নাল। পেকুয়া উপজেলার রাজনীতি

সচেতন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির হাত ধরে পেকুয়ার রাজনীতিতে ওয়াশিমের উত্থান ঘটলেও এখন তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। গত সংসদ নির্বাচনের ২০ দিন আগে ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন বলে জানা যায়। এর পর তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবি না পেলেও মগনামা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর মনোনীত হয়েছেন। অবশ্য যোগদানের বিষয়টি আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী স্বীকার করেননি।

advertisement
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর হলেও ওয়াশিম পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বড় অর্থ জোগানদাতা। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে তার এখন সরব উপস্থিতি। বলে বেড়াচ্ছেন ইউপি নির্বাচনের জন্য নৌকা প্রতীক চান।

সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চকরিয়া কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের জনসভায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে মিছিলসহকারে যোগ দেন ওয়াশিম। এর পর থেকে চকরিয়া-পেকুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে পাশে পাচ্ছেন ওয়াশিম। তবে ওয়াশিমকে নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ। এ নিয়ে জেলা নেতৃবৃন্দকে বারবার তাগাদা দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মগনামা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কয়েক নেতাকর্মী জানান, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে মগনামা ইউনিয়নের শরতঘোনা এলাকার এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যান ওয়াশিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করে ওই নারী। ২০১৬ সালের অক্টোবরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল কাসেমকে অস্ত্র ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে চেয়ারম্যান ওয়াশিমের বিরুদ্ধে পোস্টারিং করে মগনামা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ইউনিয়ন যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

২০১৭ সালের আগস্টে পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও তার তিন ভাইকে র‌্যাবের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ওয়াশিম অস্ত্র ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসান বলে অভিযোগ করেছিলেন জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী রোমানা আক্তার। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মগনামার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরীর বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও তাকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও আছে ওয়াশিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছিল। এসব মামলা কারাভোগ করেন তিনি।

২০১৮ সালের জুন মাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে টাঙানোর দায়ে চৌকিদার মোস্তাক আহমদকে চাকরিচ্যুত করেছিলেন চেয়ারম্যান ওয়াশিম। এ ছাড়া চৌকিদার আবদুর রহিমকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগে চাকরিচ্যুত করেছিলেন। সে সময় ভুক্তভোগী এই দুজন জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। ২০১৯ সালের মার্চে ওয়াশিমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। কাজী মার্কেট এলাকায় ‘সালাহ উদ্দিন নামের এক নিরীহ যুবককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ হয়েছিল।

২০১৯ সালে পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে না যেতে ওয়াশিম বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ ভোটারদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এসএম গিয়াস উদ্দিন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মগনামা ইউনিয়নের কাকপাড়া ও জালিয়াপাড়া থেকে ৭৭টি বসতি উচ্ছেদের অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যান ওয়াশিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কাকপাড়া এলাকার বজল করিমের ছেলে নাজির হোসেন চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।

মগনামা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ রিপন অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান ওয়াশিম আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও এখন বাঁচিয়ে রেখে মারছে। সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকেসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২২ নেতাকর্মীকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। সে মগনামা ইউনিয়নকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীশূন্য করার মিশনে নেমেছে।

মগনাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইউনুস বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে পুরো মগনামায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে ওয়াশিম। সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে মগনামায় কায়েম করেছে নিজস্ব শাসনব্যবস্থা। তার হাতে নির্যাতিত এলাকার অসংখ্য মানুষ। চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, অস্ত্র ও মাদক দিয়ে ফাঁসানো এখন তার নিত্যনৈমিত্তিক কাজ।

মগনামা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খাইরুল এনাম বলেন, সারাজীবন রাজনীতির পেছনে সময় দিয়েও আওয়

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

ফেসবুকে আমরা